যে যুদ্ধ করেছিল ছাগল


১৪৯৯ সাল। সুইজারল্যান্ডের গ্রুয়ার রাজ্যে ঘটল একটি ব্যতিক্রম ঘটনা। গ্রুয়ার শহর আক্রমণ করল পাশের শহরের বার্নিজ উপজাতিরা। নিজের দেশ রক্ষার জন্য সবাই মরিয়া হয়ে উঠলো। গ্রুয়ার রাজ্যের জনগণও ঝাঁপিয়ে পড়ল সেই যুদ্ধে।

পরিবারের সব পুরুষই ঘর ছেড়ে বাইরে যোগ দিল যুদ্ধে। প্রাণপণ যুদ্ধ করেও তাদের অবরোধ কিছুতেই ভাঙতে পারছিল না গ্রুয়াররা। তাদের দিকে ক্রমশ এগিয়ে আসতে লাগল বার্নিজ উপজাতিরা।

গ্রুয়ার শহরটা ছিল একটা পাহাড়ের ওপর। আর পাহাড়ের ঠিক নিচে বার্নিজদের অবস্থান। ওখান থেকেই তারা ধীরে ধীরে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ওদিকে গ্রুয়ায় প্রত্যেক বাড়িতে মেয়ে ও শিশুরা মহাচিন্তায় পড়ে যায়। রাতে শহরের সব মেয়ে একটি গোপন বৈঠক করল। বৈঠকের এটাই ছিল মূল প্রতিপাদ্য— কী করে এই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। অবশেষে তারা নিল এক মজার সিদ্ধান্ত।

গ্রুয়ার রাজ্যের সবাই ছিল ছাগল পালক। তাদের আয়ের প্রধান উৎসই ছিল এই পশুচারণ। সবার ঘরেই কম করে হলেও দশ-বিশটি করে ছাগল থাকত। মেয়েরা করল কী, সবাই মিলে হাজারখানেক ছাগল একত্র করল— পাহাড়ি ছাগল। শিংগুলোও বেশ বড় বড়। মেয়েরা প্রত্যেক ছাগলের মাথায় বড় শিংয়ের সঙ্গে দুটো করে মসাল দিল বেঁধে। এরপর গভীর রাতে মশালে আগুন ধরিয়ে সেগুলোকে ছেড়ে দিল বাইরে।

ব্যস, ছাগলগুলো দৌড়াতে লাগল। অনেকদিন ধরে তারা মাঠে চরতে পারে না। ছাগলগুলো ভাবল, নিশ্চয় তাদের মাঠে পাঠানো হচ্ছে। মনের খুশিতে ছাগলগুলো পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নামতে লাগল। এ দৃশ্য দেখে বার্নিজরা বেশ ভয় পেয়ে গেল। তাদের ভেতরে ছিল প্রচুর ভূতের ভয়। দূর থেকে কিছু বোঝারও উপায় নেই।

হাজারো আলোকে এভাবে আসতে দেখে তারা এটাকে ভূতের আক্রমণ ভেবে বসল। তখনই ঘটল একটা বিস্ময়কর ঘটনা। শয়তান ভেবে তারা যে যার মতো দিল ভৌ দৌড়। সব্বাই পালিয়ে গেল অস্ত্রশস্ত্র সব ফেলে। সকালে গ্রুয়াররা দেখল, বার্নিজরা সব উধাও। আর তাদের ছাগলগুলো মনের আনন্দে ঘাস খেয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের শিংয়ে তখনও মশালগুলো বাঁধা ছিল। বাড়ি ফিরে নিজেদের স্ত্রীর কাছ থেকে ঘটনার পুরোটা জানতে পেরে হাসির রোল পড়ে গেল পুরো শহরজুড়ে।


আজব খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পরবর্তী পোস্ট

হোটেলটিতে বাস করে ভূত, এক রাত থাকবেন নাকি?

সোম জুলা ২৭ , ২০২০
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে ভীতিকর যতগুলো জায়গা আছে, তার মধ্যে এই হোটেলটি অন্যতম একটি জায়গা। হোটেলটি তৈরি হয় ১৮৪৯ সালে। এটি যখন তৈরি তখন এর নাম ছিল ‘নর্থ কাপুনডা আর্মস’। তবে ১৮৫৬ সালে নামের কিছুটা পরিবর্তন করে এর নাম রাখা হয় ‘নর্থ কাপুনডা হোটেল’। এক সময় তামার খনিতে কাজ করতে অনেক শ্রমিক কাপুনডা শহরে এসে বসবাস শুরু করে। তাদের জন্যই তৈরি হয়েছিল হোটেলটি। কাপুনডা শহরের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে এই হোটেলটির অতীত ইতিহাস। ১৮৫৯ সালে কাপুনডা শহরে হয়েছিল ভীষণ দাঙ্গা। […]