দুই প্রেমিকাকে একসঙ্গে বিয়ে করলেন প্রেমিক


দুই প্রেমিকাকে একসঙ্গে বিয়ে করলেন প্রেমিক। ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে কয়েক দিন আগে এ রকমই এক ঘটনা এখন সামনে এসেছে।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন থেকে এমনটি জানা গেছে। সংবাদমাধ্যম জানায়, মাওবাদী প্রভাবিত বস্তার এলাকার চন্দু মুরিয়া তার দুই প্রেমিকা সুন্দরী কাশ্যপ এবং হাসিনা বাঘেল-দুজনকে সব সামাজিক রীতি মেনে একই দিনে, একই মণ্ডপে বিয়ে করেছেন। গত রোববার বিয়ের পরে চারদিন ধরে চলেছে উৎসব। চন্দু এবং হাসিনার পরিবার বিয়েতে উপস্থিত থাকলেও সুন্দরীর বাড়ি থেকে কেউ আসেননি।

মুরিয়া জাতিগোষ্ঠীর যুবক চন্দু মুরিয়ার বয়স এখন ২৪। তার থেকে বছর তিনেকের ছোট মুরিয়ার বড় স্ত্রীর নাম সুন্দরী। আর ছোট স্ত্রী হাসিনা চার বছরের ছোট। কিছুটা জমিজমা আছে মুরিয়ার, আর তাতেই চাষাবাদ করেন তিনি।

জানান, বছর তিনেক আগে সুন্দরীদের গ্রামে গিয়েছিলাম কাজে। সেখানেই ওর সঙ্গে আলাপ হয়। তারপরে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল মোবাইলের মাধ্যমে। সেখান থেকে প্রেম হয় আমাদের মধ্যে। তার বছর খানেকের মধ্যে হাসিনা আমাদের গ্রামে এসেছিল কোনো বিয়ে বাড়িতে। হাসিনাই আমাকে নম্বর দিয়ে ফোন করতে বলে। আমি ভেবেছিলাম বন্ধুত্ব পাতাতে চাইছে। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম শুধু বন্ধুত্বতেই আর থেমে থাকছে না। একদিন তো বলেই দিল যে সে আমার প্রেমে পড়েছে।
চন্দু পড়লেন মহাসমস্যায়। একদিকে সুন্দরীর সাথে পুরনো প্রেম, আর অন্যদিকে তার জীবনে নতুন আগমন ঘটেছে হাসিনার। একদিন তিনি সুন্দরীকে জানিয়ে দিলেন বিষয়টা।
প্রথমে চন্দুর কাছ থেকে হাসিনার ব্যাপারে জেনে খারাপ লেগেছিল। কিন্তু তারপরে বললো, আমি নিজেই হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে চাই। মোবাইলে কথা বলে আমার বেশ ভাল লেগেছিল বলে জানান চন্দুর বড় স্ত্রী সুন্দরী।

তিনি আরও জানান, আমরা দুজনে দুজনকে বোন বলে ডাকতে শুরু করেছিলাম। আমাদের দুজনের দেখাও করিয়ে দিয়েছিল চন্দুই।

এরই মধ্যে হাসিনা তার গ্রাম ছেড়ে চন্দুর গ্রামে চলে আসেন একসঙ্গে থাকবেন বলে। সেটা অবশ্য সুন্দরীর পরিবার মানতে পারেনি। তাই তারা সুন্দরীকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

মুরিয়া জানান, একদিন সুন্দরী বাড়ি থেকে পালিয়ে আমাদের বাড়িতে চলে আসে। সেই থেকে আমরা তিনজনেই একসঙ্গে থাকছিলাম আমাদের বাড়িতে। বাবা-মা আর পরিবারের অন্যান্যরাও আছেন। আমার মা-ই একদিন বলেন যে, বিয়ে করে নিতে। সমাজ থেকেও বলা হয়। কিন্তু আমি কিছুটা দ্বিধায় ছিলাম।

হাসিনা এবং সুন্দরী অবশ্য এক কথায় রাজি হয়ে গিয়েছিলেন স্বামীকে ভাগাভাগি করে নিতে। কিন্তু দ্বিধা ছিল চন্দুর।

তিনি বলছিলেন, দুজনকে বিয়ে করলে বন্ধুরা হাসাহাসি করবে। একসঙ্গে যখন গ্রামে বের হবো, তখন লোকে কী বলবে, এসব ভাবনা কাজ করছিল আমার মাথায়। কিন্তু ওরা দুজন রাজি হয়ে যাওয়ায় আমিও আর না করিনি।


আজব খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পরবর্তী পোস্ট

করোনার ভয়ে পুরো প্লেন একাই ভাড়া করলেন

শনি জানু ৯ , ২০২১
মহামারি করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে হাজারো মানুষ। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে সারা বিশ্বে। করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে বিশ্বজুড়েই সবাই চেষ্টা করছেন একটু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে। মেনে চলছেন নানা বিধি-নিষেধ। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার এক বাসিন্দা যা করেছেন, তার সঙ্গে বোধহয় আর কারও তুলনা হয় না। করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে একটা প্লেনই ভাড়া করে ফেলেছেন তিনি। তার নাম রিচার্ড মুলিজাদি, জাকার্তার বিখ্যাত সোশ্যালাইট। পেজ থ্রির পার্টিতে হামেশা দেখা যায় তাকে। তবে করোনার […]