বছরের ৩০০ দিনই ঘুমিয়ে কাটান তিনি


একজন স্বাভাবিক ও সুস্থ মানুষ প্রতিদিন সাধারণত সাত-আট ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞরাও সে রকম পরামর্শ দেন। কিন্তু এমনও অনেকে আছেন যারা ঘুম নিয়ে নানা সমস্যায় ভোগেন। সারা রাত বিছানায় এপাশ-ওপাশ করেও এতোটুকুন ঘুমাতে পারেন না। তবে কেউ যদি বছরের প্রায় পুরোটা সময় ঘুমিয়ে কাটান তাহলে বিষয়টি একটু অদ্ভুতই বটে!

সত্যিই ঘটেছে এমনটি। এক ব্যক্তি বছরের ৩০০ দিনই ঘুমিয়ে কাটান। ৪২ বছর বয়সী পুরখারাম নামের ওই ব্যক্তির জন্ম ভারতের রাজস্থানে। তবে তার এটি স্বাভাবিক ঘুম নয়, চিকিৎসকের ভাষায় এই ঘুমের কারণ ‘এইপিএ এক্সিস হাইপারসোমিয়া’। এটি এক ধরনের রোগ।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এই রোগের কারণে পুরখারাম টানা ২৫ দিন পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকেন। ২৩ বছর আগে তার এই রোগ ধরা পড়ে। প্রথমবার তখন তিনি টানা ১৫ ঘণ্টা ঘুমিয়ে ছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। পরে আর ঘণ্টার হিসেবের মধ্যে ঘুম সীমবদ্ধ থাকে না। এখন দিন গুণে তার ঘুমের হিসাব করতে হয়।

পুরখারাম তার গ্রামে একটি ছোট দোকান চালান। কিন্তু তার এই রোগের কারণে মাসে মাত্র পাঁচ দিন দোকান খোলা রাখতে পারেন। মাঝে মাঝে তিনি দোকানেই ঘুমিয়ে পড়েন। তখন পরিবারের লোকজন তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পুরখারামের খাওয়া, গোসলসহ অন্য কাজ ঘুমের মধ্যেই করানো হয়।

জানা যায়, পুরখারামের এই রোগের কোনো চিকিৎসা আপাতত নেই। তারপরও বেশ কয়েক বছর ধরে প্রচলিত চিকিৎসা করিয়ে যাচ্ছেন। এ জন্য মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাবসহ অনেক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও হয়েছে তার। তবে পরিবারের সদস্যরা আশাবাদী যে এই চিকিৎসা শেষেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন পুরখারাম।


আজব খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পরবর্তী পোস্ট

যানজটে বিরক্ত, রেহাই পেতে কুমিরে ভরা নদীতে ঝাঁপ

শুক্র জুলা ১৬ , ২০২১
যানজটে আটকাপড়ার অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই আছে। এই অবস্থা যে কতটা বিরক্তিকর, সেটা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। যানজটে বসে থাকতে কারোই ভালো লাগার কথা নয়। কিন্তু এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে ভালো না লাগলেও বসে থাকা ছাড়া তো আর উপায় নেই। চাইলেই গাড়ি নিয়ে উড়ে চলে যাওয়া যায় না, কিংবা গাড়ি রেখে হাঁটাও শুরু করা যায় না। যানজটে আটকাপড়ে বিরক্ত হলেও বসেই থাকতে বাধ্য হন গাড়ির চালক আর যাত্রীরা। তবে যানজটে বিরক্ত হয়ে কেউ কুমিরে ভরা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে, এমনটি শুনেছেন কখনো? এমন […]