Juan Dual: পাকস্থলী ছাড়াই দিব্যি বেঁচে আছেন ম্যারাথন দৌঁড়বিদ!


বলা হয়ে থাকে- পেট ঠিক তো দুনিয়া ঠিক কিংবা পেট ঠান্ডা তো দুনিয়া ঠান্ডা। এই পেটের দায়েই মানুষ দিনরাত কতো পরিশ্রম করে; রোজগার করে। খাটাখাটুনি করে অর্থ উপার্জন করে। এর একটাই কারণ আর তা হলো ক্ষুধা নিবারণ। ক্ষুধার জ্বালা সবারই আছে, কারণ সবারই পেট আছে।

মানুষের খাবার গ্রহণের উদ্দেশ্যই হচ্ছে শরীরে শক্তি সঞ্চয় করা। আর খাবার পরিপাক করে পাকস্থলী তারপর সে খাবার হজমের পর শরীর এর পুষ্টিগুণ থেকে শক্তি পায়। তবে কখনও কি ভেবে দেখেছেন, আপনি বেঁচে আছেন অথচ আপনার পেট নেই; পেটের ভেতরটা শূন্য!

হয়তো অবাক হবেন পেট ছাড়া আবার মানুষ হয় নাকি! হয়তো কেউই এমন এক বিস্ময়কর পরিস্থিতি কল্পনাতেও আনার সাহস পান না। তবে অবাক করা বিষয় হলেও সত্যি, ৩৬ বছর বয়সী জুয়ান ডুয়ালের পেটের ভেতরটি ঠিক এমনই, শূন্য। অর্থাৎ তার পেটের মধ্যে পাকস্থলী, কোলন বা মলাশয়, রেকটাম ও গলব্লাডার বা পিত্তথলী- এর কোনোটিই নেই। প্রায় ১৮ বছর ধরে তিনি এভাবেই বেঁচে আছেন। জানলে অবাক হবেন, এই মানুষটিই একজন জনপ্রিয় ম্যারাথন দৌড়বিদ।

কি, বিশ্বাস হচ্ছে না, তাই তো? শুনুন তাহলে তার কাহিনি। জুয়ানের জীবন কাহিনী জানলে হয়তো আপনার চোখ বেয়ে পানি ঝরে পড়বে! জুয়ানের জন্ম স্পেনে। পরিবারসহ বাস করতেন তিনি সেখানে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা কারণ হিসেবে সে জানতে পারে জুয়ান ‘ফ্যামিলিয়াল মাল্টিপল পলিপোসিস’ নামক এক বিরল ব্যাধিতে আক্রান্ত। এটি একটি জিনগত রোগ, যা পাকস্থলীর ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছিল ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

এই একই সমস্যার কারণে জুয়ানের দাদি এবং তার এক চাচা ‘কোলন অ্যাডেনোকার্সিনোমা’তে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এই সমস্যার কারণেই জুয়ানের বাবারও করা হয়েছিল অন্ত্রের অস্ত্রোপচার। এরপর ১৯ বছর বয়সে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করার পর জুয়ানের কোলন এবং মলদ্বার অপসারণের জন্য কঠিন অস্ত্রোপচার করা হয়। সেই তখন থেকে শুরু তার অন্য রকম জীবনের পথ চলা।

জুয়ানের বয়স যখন ২৮ বছর তখন তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। তার এই বিরল রোগটি তার পাকস্থলীকে প্রভাবিত করে ফেলে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে সেটিও অপসারণ করে ফেলতে হয়। এই অস্ত্রোপচারের পর জুয়ানের শরীরের রক্তক্ষরণ অনেক বেড়ে যায়। বেঁচে থাকা অসম্ভব হলেও ভাগ্যের জোড়ে সার্ভাইভ করে টিকে থাকেন তিনি। যদিও তার কষ্ট সেখানেই শেষ হয়নি।

পাকস্থলী অপসারণের পর ১০৬ কেজি থেকে তার ওজন কমে হয়ে যায় মাত্র ৫৭ কেজি। অস্ত্রোপচারের কয়েক মাস পরও জুয়ান উঠে দাঁড়াতে পারতেন না, এবং একটু হাঁটলেও হাঁপিয়ে উঠতেন। এর কিছুদিন পরে আবারও জুয়ানকে যেতে হয় ছুরি-কাচির নিচে। অর্থাৎ শুতে হয় অস্ত্রোপচারের টেবিলে।

তার পিত্তথলিতে বাসা বেঁধেছিল বিপজ্জনক এক ব্যাকটেরিয়া। ওই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ফলে তার শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি ঘটে। এ বিষয়ে জুয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি শরীরের শক্তি ৫০ শতাংশ হারিয়ে ফেলি। তখন আমি সম্পূর্ণ শক্তিহীন ছিলাম।’

কয়েকবার বড় ধরনের সব অস্ত্রোপচার থেকে সেরে ওঠার পর যেন নতুন জীবন পান জুয়ান। তখন স্পেন মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে জুয়ান তার বাবা-মায়ের কয়েকজন বন্ধুর আমন্ত্রণ গ্রহণ করে জাপান ভ্রমণ করেন। সেখানে গিয়ে নতুন ভাবে সব কিছু শুরু করেন জুয়ান।

জুয়ান জাপানি ভাষায় কথা বলতে পারতেন না। তাই তিনি বেশিরভাগ সময় কুকুরকে নিয়ে হাঁটতেই পছন্দ করতেন। একদিন কুকুরের দড়ি ধরে হাঁটতে-হাঁটতে কুকুর দৌঁড়াতে লাগল। এমন সময় জুয়ানও দৌঁড়াতে শুরু করল। কিছু দূর যাওয়ার পর জুয়ান অবিশ্বাস্যভাবে টের পেলেন, তিনি দৌঁড়াতে পারছেন।

এর কয়েক মাস পরেই জুয়ান ইংল্যান্ডের একটি ছোট শহরে কাজ শুরু করেন। সেখানে বিনোদনের ক্ষেত্র কম ছিল। তবে শহরটি পাহাড়বেষ্টিত হওয়ায় শারীরিকভাবে আরও সক্ষম হয়ে ওঠেন জুয়ান। তিনি সেখানে কয়েকজনের সঙ্গে গড়ে তোলেন বন্ধুত্ব। তাদের উৎসাহ ও নিজ আত্মবিশ্বাসে উঠে দাঁড়ান জুয়ান। আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠেন। এরপর শুরু করেন শারীরিক অনুশীলন।

অবাক করা বিষয় হলো, শেষ অপারেশনের আট মাস পরই টানা দুই ঘণ্টা বার্সেলোনা হাফ ম্যারাথন শেষ করেন জুয়ান। এরপর তিনি পর্বত দৌঁড় এবং অতি-ম্যারাথনের প্রশিক্ষণ শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘খেলাধুলা তাকে সুস্থ রেখেছে এবং বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগায়।’

পাকস্থলী নেই বলে জুয়ানের ক্ষুধার অনুভূতি জাগে না। যা তার জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ যেকোনো সময় শরীরের বিভিন্ন পুষ্টি কমে গেলে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন জুয়ান। এজন্য পুষ্টিবিদের পরামর্শে জুয়ান তার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার রুটিন করে রেখেছেন।

জুয়ান ম্যারাথনের সময় নির্দিষ্ট বিরতিতে খাওয়া বন্ধ করে দেন, যাতে তা শেষ করার জন্য পর্যাপ্ত শক্তি থাকে। যদিও তার শরীর কীভাবে খাদ্য প্রক্রিয়া করে তা স্পষ্ট নয়। তবে স্প্যানিশ সংবাদপত্র মার্কা অনুসারে, তিনি ডোনাট থেকে শুরু করে হ্যাম, পাস্তাসহ সবকিছুই মোটামুটি খেয়ে থাকেন। তবে তরলজাতীয় খাবার বেশি খান জুয়ান।


আজব খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পরবর্তী পোস্ট

Malian woman gives birth to 9 babies : একসঙ্গে ৯ সন্তান জন্ম!

মঙ্গল আগ ৩১ , ২০২১
জমজ দুটি-তিনটি কিংবা চারটি সন্তান জন্মানোর ঘটনা বেশ স্বাভাবিক। এমনটি হরহামেশাই ঘটছে বিভিন্ন দেশে। এমনকি আমাদের দেশেও। তবে কখনও কি শুনেছেন, কোনো নারী একসঙ্গে একটি বা দুটি নয়, একসঙ্গে জন্ম দিয়েছেন ৯টি সন্তান? অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। আফ্রিকার দেশ মালি। একানে ২৫ বছর বয়সী এক নারী একসঙ্গে ৯টি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এতোগুলো সন্তান একসঙ্গে জন্ম দেওয়ার ফলে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে নামও লিখিয়েছেন। তিনিই প্রথম নারী, যিনি একসঙ্গে সর্বোচ্চ সংখ্যক সন্তান জন্ম দিয়েছেন। ওই নারীর নাম হালিমা সিসো। গর্ভকালে তার পরীক্ষা […]